পদ্মায় বিরাট শাপলাপাতা মাছ

লিখেছেন মাইশা জাহির এবং অনিকা তাবাসসুম

নদীতে আবারো ধরা পড়লো বি-রা-ট শাপলাপাতা মাছ। পদ্মায়। এই মাছেদের জন্য চমৎকার উপযোগী বসতি নদীমাতৃক বাংলাদেশ। কিন্তু এরপরও মিঠাপানির শাপলাপাতা ধরার খবর খুবই কম শোনা যায়।

giant-freshwater-whipray
পদ্মায় ধড়ে পড়েছে এই শাপলা পাতা মাছ। ছবি: দৈনিক বার্তা

উনত্রিশে আগস্ট খুব সকালে, ইসহাক সর্দার এবং তার ভাতিজা বাবু সর্দার মাছ ধরতে গিয়েছিলেন পদ্মায়। দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে। জাল তুলতে গিয়ে বুঝলেন খুব ভারি কিছু একটা আটকা পড়েছে। নৌকার ছয় সাত জন লোক মিলে টেনেও জাল তুলতে পারলেন না। পরে কাছের অন্য বোটগুলো থেকে লোক ডেকে সবাই মিলে টেনে তুললেন। জাল উঠলে দেখা গেলো যে ধরা পড়েছে বিরাট এক শাপলাপাতা মাছ।

জেলেরা বিস্মিত ও আনন্দিত। পানি থেকে জালতুলে মাছটা ছাড়িয়ে তুললেন ভ্যানগাড়িতে। পরে মাছটা নেয়া হয় দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালের কাছে মাছবাজারে। চারশো দশ কেজি ওজনের মাছটা কিনে নেন মাছ-ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম।

পরে তার কাছ থেকে আবার রাজবাড়ি জেলা শহরের আরেক ব্যবসায়ী কুটি মন্ডল কিনে নেন মাছটি। দাম উঠলো আশি হাজার টাকা। রাজবাড়ি মাছ বাজারে নিলে ভিড় জমে যায় মাছটি দেখতে। দৌলতদিয়া বাজার থেকে গোয়ালন্ডের শহরের বাজারে নিতে পথে লেগে যায় প্রায় দুই ঘন্টা, মাছটি দেখতে উৎসুক মানুষ পথে পথে ভিড় করেন।

ব্যবসায়ী রেজাউল জানালেন, এর প্রায় পনেরো বছর আগে একবার এমন বিরাট এক শাপলাপাতা মাছ ধরা পড়েছিল এই এলাকায়। তার অনুমান, এই ধরনের মাছেরা নদীর খুব নীচে একদম তলার দিকে থাকে বেশিরভাগ সময়। কাজেই ঐতিহ্যবাহী ভাসাজালে এরা ধরা পড়েনা। এরকম হতে পারে যে, খুব সম্ভবত পদ্মার পানির ঢেউ এবং তোড়েই মাছটা উপরের দিকে উঠে আসছিলো।

স্থানীয় মৎস্যজীবী ক্ষীর মোহন বিশ্বাস বললেন যে মাছটার বয়স ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছরের মতো হবে। কয়েক দশক ধরে রাজবাড়ি বাজারে মাছ কাটেন ক্ষীর মোহন। এরকম বিরাট শাপলাপাতা মাছ তিনি দেখেছেন কমসেকম কুড়ি বছর আগে।

পরে খুচরা বাজারে পাঁচশো টাকা কেজি দরে বেচা হয় মাছটি।

গোয়ালন্দ উপজেলার মৎস কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল শরীফ জানান, শাপলা পাতা মাছ একটি সামুদ্রিক মাছ, তাই নদীতে দেখা যায় কম‌। তবে তার বিশ্বাস, পদ্মায় মাছের জন্য অভয়াশ্রম বানাতে পারলে, আরো ঘন ঘন এমন বড় মাছের দেখা মিলবে পদ্মায়। 

ভিডিও: বরিশাল মেট্রো

মৎস বিভাগের মেরিন ফিশারিজ সার্ভে ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের বৈজ্ঞানিক অফিসার মোহাম্মদ ইউসুফ হাসান, এবং শের এ বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ কাজি আহসান হাবীবের সাথে কথা বলে জানা যায়, শাপলা পাতা মাছটি একটি বিশাল মিঠাপানির হুইপরে। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো উরোজিমনাস পলিলেপিস

ছবি: বাংলা ট্রিবিউন

এই মাছ পদ্মায় দেখতে পেয়ে দৌলতদিয়া ও রাজবাড়ীর জেলে গোষ্ঠীর মাঝে যেনো উৎসবের আমেজ নেমে এসেছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে অনেকেই বলেছেন, এই মাছ আল্লার নেয়ামত হিসেবে ধরা পড়েছে পদ্মায়। 

হঠাৎ এমন বিশাল মাছের দেখা একটি খুশির খবর তো বটেই। তবে বাংলাদেশ যেখানে একটি জীবন্ত বদ্বীপ,‌ এমন মাছের দেখা কি এখানে এতটাই বিরল ঘটনা হওয়ার কথা? আমাদের দেশের নদীগুলো এমন শাপলা পাতা মাছদের বাসস্থান এবং বংশ বিস্তারের জন্য আদর্শ। তবে নদীর যথেচ্ছা ব্যবহার, অবৈধ দখল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর কার্যক্রমের কারনে নদীর অবনতি ঘটায় শাপলা পাতা মাছের সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে।  

Leave a Reply